ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জ্বালানি সংকটে বেসামাল বাংলাদেশ, বাজার সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ

আমার ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

জ্বালানি সংকটে বেসামাল বাংলাদেশ, বাজার সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ

জ্বালানির দামের অস্থিরতায় অস্থির সারা বিশ্ব। এর কষাঘাতে বেসামাল বাংলাদেশও। জ্বালানি সংকটে কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এর প্রভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক মিল-কারখানা, ব্যাহত হচ্ছে শিল্প উৎপাদন। একই সঙ্গে জ্বালানি সংকটের চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও সরকারের অর্থনীতিতে।

বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা মোকাবিলায় বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। সংকট কাটিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একদিকে বাড়ছে রাষ্ট্রীয় ব্যয়, অন্যদিকে বাজার ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

বিশ্ববাজারে বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করায় বড় ধরনের লোকসান গুনছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন—বিপিসি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ছয় মাসে বিপিসির লোকসানের পরিমাণ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা এবং দেশের বাজারে নিয়ন্ত্রিত মূল্যে তেল বিক্রির কারণে এই আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস—এলএনজির ওপরও নির্ভর করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। চড়া দামে এলএনজি আমদানি করে কম দামে সরবরাহের ফলে পেট্রোবাংলার ওপরও বাড়ছে আর্থিক চাপ।

গত ছয় মাসে নির্ধারিত ভর্তুকির বাইরে পেট্রোবাংলার অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে জ্বালানি খাতে বিপিসি ও পেট্রোবাংলার লোকসান ও অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সরাসরি পড়ছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে। অঞ্চলটিতে সংঘাত বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামে।

আমদানি-নির্ভর বাংলাদেশের মতো দেশগুলোকে তাই বৈশ্বিক বাজারের এই অস্থিরতার সরাসরি মাশুল দিতে হচ্ছে।

বর্তমান সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি তেলের বাজার ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসির নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

এর ফলে জ্বালানি তেলের বাজারে বিপিসির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ আর থাকছে না। সরকার বাজার আংশিকভাবে উন্মুক্ত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালাও প্রণয়নের কাজ চলছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল আর্থিক লোকসান ও অতিরিক্ত ব্যয়।

এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের বাজারে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করার উদ্যোগকে বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এই সংস্কারের সফলতা নির্ভর করবে নীতিমালার স্বচ্ছতা, বাজার তদারকি এবং বেসরকারি অংশগ্রহণকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অর্থের ওপর চাপ কমাতে সরকার এই উদ্যোগ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

আমার ক্যাম্পাস

Link copied!