ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বার সভাপতির অভিযোগ, আপিল বিভাগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

আমার ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বার সভাপতির অভিযোগ, আপিল বিভাগে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার জেরে মঙ্গলবার আপিল বিভাগে বিচারিক কার্যক্রমে সাময়িক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগের বিচারকাজ চলাকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান বলে জানা গেছে।

পরে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্থবিরতা, বিচারিক বিলম্ব, বেঞ্চ সংকটসহ একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন বার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন খোকন।

বার সভাপতি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর আপিল বিভাগে মামলা শুনানির গতি কমে গেছে। আগে ১১ জন বিচারপতির সমন্বয়ে তিনটি বেঞ্চ সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে মাত্র একটি বেঞ্চ সচল রয়েছে। এতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ব্যাহত হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বিচারিক কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে আইনজীবীদের পেশাগত কাজ ও আয়ও কমে গেছে বলে অভিযোগ করেন মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিশেষ করে সাধারণ ও জুনিয়র আইনজীবীরা এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

চেম্বার আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও ইনজাংশনের মামলাগুলো দীর্ঘদিন আপিল বিভাগে শুনানি না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে তা বহাল থাকছে বলেও অভিযোগ করেন বার সভাপতি।

এ ছাড়া তথ্য গোপনের অভিযোগে সম্প্রতি এক জুনিয়র আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। ওই আইনজীবীকে ক্ষমা করার অনুরোধ করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান মাহবুব উদ্দিন খোকন।

আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় জরুরি প্রয়োজনে মামলার ক্রম পরিবর্তন বা বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচলিত ‘মেনশন’ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কোর্টসূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালে শুনানির সময় এসব বিষয় নিয়ে বার সভাপতি সরাসরি কথা বললে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ তার নেতৃত্বাধীন অপর চার বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করে খাসকামরায় চলে যান।

সুপ্রিম কোর্টে এমন বিরল পরিস্থিতির ঘটনায় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে বার সভাপতির উত্থাপিত অভিযোগ এবং এজলাসের ঘটনার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বা সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আমার ক্যাম্পাস

Link copied!