দেশের একমাত্র দেশিয় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন–মার্সেল’র বিরুদ্ধে জাতীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেছে একটি সংগঠন। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) ‘ওয়ালটন ও মার্সেল ক্ষতিগ্রস্ত ডিলার ঐক্য পরিষদ, বাইপাল–আশুলিয়া, ঢাকা’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সংগঠনটি অনিবন্ধিত। তারা পরিকল্পিতভাবে ওয়ালটন–মার্সেল’র সুনাম ‘ক্ষুণ্ন করতে’ এমন আয়োজনে মিলিত হয়েছে।
সরেজমিন মানববন্ধনে দেখা গেছে, উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্য ‘সবই প্রশ্নবিদ্ধ’। মানববন্ধনে অংশ নিতে আসা একাধিক ব্যক্তিকে ডিলার কোড, শোরুম তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করলে, তারা কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। এমনকি একজন প্রথমে নিজেকে ওয়ালটনের ডিলার দাবি করলেও, পরবর্তীতে জানান, তিনি একটি শোরুমের কর্মচারী। আরেকজন বলেন, তিনি মিনিস্টার কোম্পানির বিরুদ্ধে মানববন্ধনে এসেছেন। কিন্তু কেন ওয়ালটন–মার্সেল ব্যানারে দাঁড়ানো, তারও কোনো সদুত্তর নেই। একজন নিজেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ওয়ালটনের ডিলার পরিচয় দিয়ে দাবি করেন। জানান, তিনি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তবে, মামলার কপি চাইলে তিনি নথি দেখাতে ব্যর্থ হন।
অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, বাকিতে পণ্য নিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে এখন উল্টো কোম্পানিকে দোষারোপের জন্যই এই ‘ভুয়া মানববন্ধন’।
ওয়ালটন–মার্সেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, গাজীপুরের একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির কাছ থেকে বাকিতে পণ্য নিয়ে সেই অর্থ পরিশোধ না করেই বারবার নতুন করে পণ্য দাবি করছিলো। মানবিক দিক বিবেচনা করে কোম্পানি তাদের পুনরায় পণ্য দিলেও দ্বিতীয় দফার বাকি অর্থও ফেরত দেয়নি। বরং, নতুন করে একই দাবি তুলতে শুরু করেছে। যখন কোম্পানি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় পাওনা ফেরত চাইছে, তখনই এই চক্র ‘ভাড়াটে লোকজন জড়ো করে’ এমন মানববন্ধনের আয়োজন করে।
এদিকে, কোম্পানি কর্তৃপক্ষ এটিকে দেশের বৃহৎ স্থানীয় শিল্পকে বেকায়দায় ফেলতে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওয়ালটন–মার্সেল দেশের সুনাম বহির্বিশ্বে সমুন্নত রাখছে। এর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের সুবিধা করে দিতে পারে।
দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, চুক্তি নথি বা লেনদেন–সংক্রান্ত কোনো কাগজ ছাড়া ডিলার দাবি করা প্রতারণার শামিল। সংশ্লিষ্ট শিল্প মহল বলছে, দেশের মানুষ যেখানে প্রতিদিন কর্মহীন হচ্ছে, সেখানে একটি প্রতিষ্ঠান লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এভাবে মিথ্যা অপপ্রচার ভয়াবহ মানহানিকর।

আপনার মতামত লিখুন :