চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রতিবন্ধী ছাত্র-সমাজ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডিসকো) ২০২৫-২৬ কার্যকরী কমিটি ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, বিগত কমিটির নেতারা নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নির্বাচনকে ঘিরে চবির সহকারী প্রক্টর ও ডিসকোর প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগ উঠেছে ডিসকোর তিনজন সদস্যের বিরুদ্ধে।
ডিসকোর ২০২৫-২৬ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। চবির সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীর সংখ্যা কম থাকায় তারা মনোনয়ন জমা দেয়নি। পরে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করা হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা কেউই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেননি।
নবগঠিত কমিটির নেতাদের দাবি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের প্রার্থীরা নির্বাচনী পরিবেশ বানচালের চেষ্টা করেছিল। মনোনয়ন জমাদানের সময় বাড়ানো হলেও কেউ মনোনয়ন সংগ্রহ না করায় বর্তমান প্যানেলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এরই মাধ্যমে ডিসকোর ২০২৫-২৬ কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়।
এ বিষয়ে ডিসকোর শিক্ষা, সাহিত্য ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ মৃধা বলেন,নবগঠিত কমিটি শপথ নেওয়ার পরও বিদায়ী কমিটির নেতারা দায়িত্ব হস্তান্তর করছে না। বিষয়টি নতুন কমিটির নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হামিদ কানন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে জানিয়েছে।
এদিকে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে বরং সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কাননকে ‘চোর’, ‘দালাল’, ‘নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি’ বলে বাজে মন্তব্য করেছেন ডিসকোর তিনজন সদস্য। তারা হলেন- রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী নাদিম হোসেন, তিনি ডিসকোর বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন; একই বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী নূর নবী, তিনি বিদায়ী কমিটির অর্থ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী ও ডিসকোর সদস্য সিদ্ধার্থ মিস্ত্রী। তাদের বাজে মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতর উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
অপরাধ অস্বীকার করে অভিযুক্ত নূর নবী বলেন, আমি অস্বীকার করছি না তবে আমি ভিন্ন প্রসঙ্গে কথাটি বলেছিলাম। তিনি আমাদের কোনো কথাই শুনতে চাননি। নির্বাচনে আমরা যে অভিযোগ দিয়েছিলাম, সেগুলোর কোনোটি তিনি শোনেননি বা নিষ্পত্তি করেননি। এমনকি আমাদের অভিযোগ গ্রহণ না করে প্রশাসন আমাদের সঙ্গেও বাজে ব্যবহার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারীকে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সভাপতি করতে চাওয়া হয়েছিল। প্রচারণার সুযোগ না পাওয়ায় আমরা নির্বাচন দুই দিন পেছানোর দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের এসব কথা শুনেনি। কানন স্যার উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) শামীম স্যার বিরুদ্ধে যে মিথ্যাচার করেছেন, এ কানন স্যারকে চোর বলবো না তো কি বলব।
দায়িত্ব হস্তান্তর ও কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি নির্বাচিত কমিটি আসুক, প্রয়োজনে তারাই দায়িত্ব নিক। তার আগে আমরা দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব না।
ডিসকোর সদস্য ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থ মিস্ত্রী বলেন, “আমাদের গ্রুপের মধ্যে অনেকেই বিক্ষিপ্তভাবে অনেক কথাবার্তা বলে। এখানে উভয় পক্ষ থেকেই কথা বলা হয়েছে। তবে একটা পক্ষ সেখানে বিভিন্ন মেসেজ সহকারী প্রক্টরকে দেখিয়েছে। তাছাড়া এটা আলাদা করে কিছু না। কমিটি হস্তান্তর বিষয়টি আমার জানা নেই। কেননা আমি বিদায় কমিটিতে ছিলাম না।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সোওরাওয়ার্দী বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ডিসকোর কার্যক্রম প্রক্টর অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। এবারের নির্বাচনে মাত্র একটি প্যানেল মনোনয়ন নিয়েছে, বাকিরা নেয়নি। প্রতিপক্ষ না থাকায় তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়। গেজেট প্রকাশ ও শপথ অনুষ্ঠানও সম্পন্ন হয়েছে। তবে নতুন কমিটির পক্ষ হিসাব চাইছে, অপরপক্ষ হিসাব দিতে রাজি নয়।
তিনি জানান, এখন তারা একজন সরকারি প্রক্টরের বিরুদ্ধে মন্তব্য করেছে এ ঘটনায় তিনজনের নাম এসেছে। তাদেরকে বিষয়টির প্রমাণ দিতে হবে প্রমাণ দিতে না পারলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিন কমিটির মাধ্যমে সিন্ডিকেট থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর প্রমাণ পাওয়া গেলে আমরা নিজেরাও দায়িত্বশীলভাবে শাস্তি মাথা পেতে নেব।

আপনার মতামত লিখুন :