ঢাকা শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পদ্মা অয়েলে ডিজিএম পদ নিয়ে উত্তেজনা: এমডির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগ ফারুকের বিরুদ্ধে

আমার ক্যাম্পাস ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

পদ্মা অয়েলে ডিজিএম পদ নিয়ে উত্তেজনা: এমডির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার অভিযোগ ফারুকের বিরুদ্ধে

রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল কোম্পানি–তে ডিজিএম (অপারেশন) পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে শীর্ষ পর্যায়ে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং) ফারুক হোসেন মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জ্বালানি খাতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পদ শূন্য হওয়ার পর শুরু তদবির

পদ্মা অয়েল সূত্র জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ডিজিএম (অপারেশন) আসিফ মালিক অবসরে গেলে পদটি শূন্য হয়। তেল বিপণন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী হওয়ায় পদটিতে নিয়োগ পেতে একাধিক কর্মকর্তা তদবির শুরু করেন। তাদের মধ্যে ফারুক হোসেন মাহমুদও ছিলেন। তবে অপারেশন শাখায় সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা না থাকায় তাকে এ পদে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

বোর্ড সভায় উত্তেজনা, চাপের অভিযোগ

সূত্রের দাবি, এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে বোর্ড সভার মধ্যেই এমডি মফিজুর রহমানের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ফারুক। তাকে অপারেশনের দায়িত্ব না দিলে তার পক্ষে থাকা কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুমকি দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)–এর শীর্ষ পর্যায়কে ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছে—এমন কথাও তিনি বলেন বলে উপস্থিত কর্মকর্তারা দাবি করেন। এতে সভায় থাকা কর্মকর্তারা বিব্রত হন।

কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ক্ষোভ

ঘটনাটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছড়িয়ে পড়লে কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকে এটিকে অফিসিয়াল শৃঙ্খলা ভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পদোন্নতির অভিযোগ

পদ্মা অয়েলের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফারুক হোসেন মাহমুদ এজিএম পদে থাকাকালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অন্তত এক ডজন কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে ডিজিএম (ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং) পদে পদোন্নতি নেন। অতীতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজ অবস্থান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের অভিযোগ

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার বসুন্ধরা ও উত্তরা, চট্টগ্রামের হালিশহর ও আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজের ও পরিবারের নামে একাধিক জমি, ফ্ল্যাট ও বাড়ি রয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে এসব অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।

নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ

পদ্মা অয়েলের অভ্যন্তরীণ মহলের একাংশের আশঙ্কা, অপারেশন শাখায় অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফারুক হোসেন মাহমুদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমার ক্যাম্পাস

Link copied!