ঢাকা বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি: ঢাকা-১৭ আসনে তপু রায়হানের মতবিনিময়

আমার ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬

দায়িত্ববোধ, উত্তরাধিকার ও নাগরিক প্রত্যাশার রাজনীতি: ঢাকা-১৭ আসনে তপু রায়হানের মতবিনিময়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত আসন ঢাকা-১৭ থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী তপু রায়হান সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এই সভায় তিনি তার রাজনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন ভাবনা, নির্বাচনী অবস্থান এবং ঢাকা-১৭ আসনের নাগরিক সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন।

মতবিনিময়ের শুরুতেই তপু রায়হান বলেন, ঢাকা-১৭ কেবল একটি নির্বাচনী এলাকা নয়; এটি শহীদ জহির রায়হান, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও আধুনিক নগরজীবনের ইতিহাস বহনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। তার ভাষায়, এই এলাকার মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। আমি রাজনীতিতে এসেছি ক্ষমতা বা সুবিধার জন্য নয়, বরং দায়িত্ববোধ থেকে।

তিনি বলেন, তার পিতা শহীদ জহির রায়হানের মুক্তচিন্তা, গণতন্ত্র ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের দর্শনই তার রাজনৈতিক পথচলার মূল অনুপ্রেরণা। এই উত্তরাধিকার শুধু স্মৃতির নয়, বরং দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার—এমন মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা-১৭: সমস্যা ও সম্ভাবনার চিত্র

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তপু রায়হান ঢাকা-১৭ আসনের বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বনানী, গুলশান ও ক্যান্টনমেন্ট-সংলগ্ন এই এলাকায় প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষের যাতায়াত থাকলেও পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনার ঘাটতি প্রকট।

তার মতে, যানজট ও জলাবদ্ধতা শুধু দৈনন্দিন ভোগান্তির কারণ নয়—এগুলো বছরে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে এবং অর্থনীতিতে বড় ক্ষতির জন্ম দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অনিয়ন্ত্রিত আবাসন ব্যবস্থা, নাগরিক নিরাপত্তা ঝুঁকি, সরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং তরুণদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের অভাব ঢাকা-১৭ আসনের বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচিত হলে এলাকাভিত্তিক সমন্বিত উন্নয়ন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ পরিকল্পনার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি নাগরিক সেবাকে ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সংসদীয় নজরদারি জোরদারের অঙ্গীকার করেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অবস্থান

দলীয় রাজনীতির বাইরে থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তপু রায়হান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আমার দুর্বলতা নয়—এটাই আমার শক্তি। আমি কোনো দলীয় বলয়ের নির্দেশে নয়, মানুষের বিবেকের নির্দেশে কথা বলতে চাই।

তিনি বলেন, সংসদে ঢাকা-১৭ আসনের নাগরিক সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে স্বাধীন কণ্ঠই সবচেয়ে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে। সাধারণ মানুষের আস্থা ও অংশগ্রহণই তার রাজনীতির মূল ভিত্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আহ্বান

মতবিনিময় সভায় তপু রায়হান নির্বাচনী সহিংসতা, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার পরিহার করে একটি শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও ন্যায়সংগত নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ভোট যেন হয় আস্থার উৎসব—আতঙ্কের নয়।

সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা ঢাকা-১৭ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোটারদের মনোভাব, প্রচারণা কৌশল এবং ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়নে তার ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরে তপু রায়হান স্বচ্ছতা, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন।

মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের অনেকেই মন্তব্য করেন, ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার, নাগরিক সমস্যার বাস্তব উপলব্ধি এবং স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থানের সমন্বয় তপু রায়হানকে ঢাকা-১৭ আসনে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচিত প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের মতে, এই আসনের ভোটের ফলাফল জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নাগরিক রাজনীতির দিকনির্দেশও দিতে পারে।

আমার ক্যাম্পাস

Link copied!