সারেগামাপা ও ক্লোজ আপ ওয়ানের মতো জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো থেকে শুরু—ধাপে ধাপে নিজের জায়গা শক্ত করেছেন অবন্তী সিঁথি। ‘ওয়ান টাইম গ্লাস’ দিয়ে পারকাশিভ সংগীতে ভিন্নতা এনে আলোচনায় আসা এই শিল্পী এবার পেলেন ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বীকৃতি ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার’। ২০২৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা গায়িকা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। লন্ডনভিত্তিক নিউজ চ্যানেল ‘চ্যানেল এইটটিনকে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতযাত্রা, পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বার্তা তুলে ধরেন অবন্তী সিঁথি।
রিয়েলিটি শোই ছিল সংগীতযাত্রার সিঁড়ি
নিজের ক্যারিয়ারের শুরুটা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অবন্তী সিঁথি বলেন, সারেগামাপা ও ক্লোজ আপ ওয়ান—এই দুটি রিয়েলিটি শোই তার সংগীতজীবনের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি এই দুটো রিয়েলিটি শোকে আমার সংগীত ক্যারিয়ারের দুটো সিঁড়ি বলি। একটার পর একটা সিঁড়ি পেরিয়ে আমি এখানে এসেছি। প্রত্যেকটা জায়গা থেকেই শেখার ছিল অনেক কিছু।’
আর সংগীতচর্চার শুরুটা ছিল খুব ছোটবেলা থেকেই। পরিবার থেকেই পেয়েছেন অনুপ্রেরণা।
অবন্তী বলেন, ‘মা বলতেন, আমি নাকি কথা বলার আগেই গান গাইতাম। বোনের পাশে বসে বসে শেখা, একাডেমিক শেখার পাশাপাশি বাবা-মায়ের একটা চাওয়া ছিল—মেয়ে অনেক বড় শিল্পী হবে।’
‘ওয়ান টাইম গ্লাস’ আর ভিন্ন ধারার সংগীত
এক সময় ‘ওয়ান টাইম গ্লাস’ দিয়ে পারকাশিভ সংগীতে নতুনত্ব এনে আলোচনায় আসেন অবন্তী সিঁথি। তবে এটিকে তিনি তার সংগীতজীবনের একটি অংশ হিসেবেই দেখেন।
তার ভাষায়, ‘গান করার পাশাপাশি যদি কিছু ইউনিক করা যায়, তাহলে বিষয়টা আলাদা করে নজর কাড়ে। সেই জায়গা থেকেই ওয়ান টাইম গ্লাস দিয়ে পারকাশিভ কাজ, হুইসেল বাজানো—এসব করা। এটা আমার প্যাশন।’
তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই জিনিসগুলো মূল ধারার গানের বিকল্প হতে পারে না। আমি নিজের অরিজিনাল গানে মনোযোগ দিয়েছি। আর সেই অরিজিনাল কাজের স্বীকৃতিই আজ এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মুহূর্ত
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া নিয়ে আবেগ লুকাননি অবন্তী সিঁথি। বলেন, ‘প্রত্যেকটা শিল্পীর জীবনে এটা অনেক বড় একটা পাওয়া। আমার অনেক স্বপ্নের মধ্যে একটা স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।’
কিংবদন্তি শিল্পীদের পাশে নিজের নাম দেখার অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে যেন থমকে যান তিনি; ‘এটা তো একেবারেই স্বপ্নের মতো। এখনো মনে হয়, আমি স্বপ্নের ঘোরে আছি।’
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি বার্তা
যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন এই শিল্পী। অবন্তী বলেন, ‘ইউকেতে বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে বাংলা গানের প্রতি যে উন্মাদনা দেখি, সেটা আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করে। আমরা স্টেজে উঠেই নতুন গানের রিকোয়েস্ট পাই—এর মানে তারা নতুন কাজ শুনছেন।’
তিনি মনে করেন, গান জনপ্রিয় করতে শিল্পী ও শ্রোতার ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ; ‘একটা গান সবার কাছে পৌঁছানোর জন্য শিল্পীর যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনই শ্রোতারও দায়িত্ব আছে। শ্রোতার কানে পৌঁছালেই বাংলা গানের প্রসার হয়।’
শেষে তার আহ্বান, ‘বেশি বেশি বাংলা গান শুনুন। নতুন প্রজন্মের যারা কাজ করছে, তাদের জন্য এটা অনেক বড় অনুপ্রেরণা।’

আপনার মতামত লিখুন :