ঢাকা সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় শাহিনুর নার্গিস

আমার ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় শাহিনুর নার্গিস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে চলছে আলোচনা। নারী আসনে মনোনয়ন পেতে দলটিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছেন। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শাহিনুর নার্গিস। তিনি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

৩১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে শাহীনুর নার্গিস জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৫ সালে নরসিংদীর পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজে শাহিনুর নার্গিসের রাজনীতির হাতেখড়ি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কলেজে কমিটির ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৪ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন শাহিনুর নার্গিস। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য পদে দায়িত্ব পান। ২০১২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক ও ২০১৫ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে ২০২০ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। 

বিগত ১৭ বছরে ৩৫টির বেশি মামলার আসামি হয়েছেন শাহীনুর নার্গিস। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সাথে সকল মামলার আসামি হন। ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসে মামলার ভুক্তভোগী একমাত্র ছাত্রী শাহিনুর নার্গিস।

জানতে চাইলে শাহীনুর নার্গিস বলেন, ‘আজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যাশিত প্রার্থী এবং দল ১৭ বছরের  রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের একটা ফ্রেমকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করছে। আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৮ বিরোধী দল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মামলা হামলার শিকার হয়েছি, ১/১১’র আর্মি শাসনে রাজপথে জীবন বাজী রেখে সংগ্রাম করে নেত্রীকে মুক্ত করেছিলাম, জনাব তারেক রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর গর্জে উঠেছিলাম, অসংখ্য রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি পর্যন্ত হয়েছি। বিভীষিকাময় দিনগুলোতে নারী হয়ে দীর্ঘ সেনা আমলটি পালিয়ে বেড়িয়েছি।’ 

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। জেল-জুলুমসহ নানাভাবে দমন-পীড়ন ও নির্যাতিত হয়েছি। নারী হয়েও বাসায় থাকতে পারিনি। দলের কাছে অনুরোধ, বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে যারা রাজপথে থেকেছে, নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত রেখেছে, গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের জেলখানাসহ জামিন পর্যন্ত পাশে নেতা হিসেবে পাশে ছিলো তাদের দিকে সুদৃষ্টি দিতে। অনেকে শুধু নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং হাইলাইট হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তাদের কোন দায়বদ্ধতা ছিলো না।’

শাহীনুর নার্গিস বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি আন্দোলনের সময়কাল এবং একাধারে রাজপথে থাকার, সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে কাজ করাসহ সবকিছুর সুবিবেচনা প্রত্যাশা করি। আর আমাদের প্রত্যাশা, একমাত্র দলীয় প্রধান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

আমার ক্যাম্পাস

Link copied!