ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, “অনেক কালচারাল ফ্যাসিস্ট আজ বিএনপির বড় বড় বুদ্ধিজীবী সেজে ঘুরছেন।” শুক্রবার (৭ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ‘জনতার নয়া রাজনীতির আকাঙ্ক্ষা: বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “শহীদ জিয়া দেখিয়েছেন কীভাবে গণমানুষের জন্য কাজ করতে হয়, কীভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হয়, আর কীভাবে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আজ যারা শহীদ জিয়াকে ব্যঙ্গ করেছে, তাকে ‘মিলিটারি রুলার’ হিসেবে তুলে ধরেছে, তারাই এখন বিএনপির বড় বড় বন্ধু সাজার চেষ্টা করছে। যারা বাংলাদেশে গুম, খুন, আয়নাঘর ও শাহবাগ সংস্কৃতির মাধ্যমে জাতির সম্ভাবনা নষ্ট করেছে, তারাই এখন বিএনপির বড় বড় বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত।”
তিনি বলেন, “বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশ পুনর্গঠনের জন্য যে ঐক্য প্রয়োজন, তা আজ ভেঙে যাচ্ছে। আমরা ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের উপরে স্থান দিচ্ছি। ৫৪ বছর পর যে ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে, তা যেন আমরা নষ্ট না করি। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে হবে।”
বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, “এই দিবস আমাদের শেখায় আমাদের শত্রু কারা, মিত্র কারা। কিন্তু আমরা অনেক সময় তা ভুলে যাই। যেমন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা একসাথে রাজপথে নেমে বলেছিল, ‘নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার, দিল্লি না ঢাকা, গোলামী না আজাদি’। আবার জুলাই বিপ্লবে দেশজুড়ে ছাত্রজনতা একই স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছিল আমাদের স্বাধীনতার মূল স্পিরিট। কিন্তু আজ আমরা সেই শিক্ষা ভুলে গেছি। শহীদরা যে আকাঙ্ক্ষার আলোকে জীবন দিয়েছেন, সেই লক্ষ্য থেকে আমরা অনেক দূরে সরে গেছি। আমাদের এখন প্রয়োজন সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ পুনর্গঠনের নতুন অঙ্গীকার।”

আপনার মতামত লিখুন :